আমার বিরুদ্ধে, আমার প্রকাশক প্রশান্ত রায় বলেন, কালেক্টিভ কন্সপিরেসি চলছে। যেহেতু আমার বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল, ডান বাম সব, এমন কী অতি-বাম দলও, তাই, কেউ , কোনও প্রতিষ্ঠানই ,আমার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অন্যায় হলেও, প্রতিবাদ করে না। আমার পক্ষে দুটো বাক্য উচ্চারণ করতেও ভয় পায়। সব প্রতিষ্ঠানই আমাকে চুপিচুপি ত্যাজ্য করেছে। কেউ আমার কোনও লেখা তো ছাপায় না, আমার বই বেরোলে তার রিভিউ ছাপায় না, এমন কী বই বেরিয়েছে, এই খবরও করে না। প্রশান্ত রায়কে আমি প্রায়ই বলি, আমি সাধারণ মানুষ। দুঃখে সুখে বেঁচে বর্তে থাকি, আমাকে নিষিদ্ধ করে আমাকে অসাধারণ বানাচ্ছে ওরা। আমি নিষিদ্ধ হওয়ার যোগ্য নই অতটা। যারা আমার মতো করে লিখছে আজকাল, তাদের তো দিব্যি মাথায় তুলে নাচা হয়। তাহলে? হয়তো লেখা নয়, আমার নামটাকে নিয়ে আপত্তি। নামটাই ভয়ের।

কালেক্টিভ কন্সপিরেসি। এটা আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি দুই বাংলায়। দুই বাংলার মধ্যে কত যে অমিল। আমার ব্যাপারেই তাদের শুধু হুবুহু মিল।

প্রশান্ত রায় আছেন কলকাতা বইমেলার ৩৩৪ নম্বর স্টলে। বয়স এখন বাহাত্তর। অসুখ বিসুখ খুব একটা নেই। এককালের অতি-বাম । তিনি বলেন, তাঁর অতি-বাম বন্ধুদের সঙ্গে আমাকে নিয়ে তর্ক হয়। অতি-বামরা মনে করেন মুসলিম মৌলবাদিরা তাঁদের বন্ধু, আমি নই। যেহেতু মুসলিম মৌলবাদিরা আমাকে ঘৃণা করে তাই অতি-বামদের আমাকে ঘৃণা করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। ওসব bumদের আমার না হলেও চলবে। ওরা মুসলিম সন্ত্রাসীদের পক্ষেও কী বিচ্ছিরিভাবে দাঁড়িয়ে যায়। প্রশান্ত রায়ের মতো শিক্ষিত সচেতন অতি-বাম একজন পাশে থাকলে আর কারোর দরকার পড়ে না।

প্রশান্ত রায়ের পিপলস বুক সোসাইটি টিম টিম করে জ্বলছে। চাই না এটি একদিন নিভে যাক। প্রশান্ত রায় বাঁচুন দীর্ঘকাল। ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র, পুরুষতন্ত্র ইত্যাদির যতই সমালোচনা করি, তিনি কাঁচি হাতে নেন না। শুধু দ্বিখণ্ডিত বইটির দুটো পৃষ্ঠা আজও তিনি সাদা না রেখে পারছেন না, আজও ওতে অক্ষর বসাতে তিনি দ্বিধা করছেন। ভয়টি আমি মনে করি অমূলক।

বইমেলায় তিনিই একমাত্র যিনি তাঁর স্টলে (৩৩৪) যত্ন করে আমার বই রাখছেন। অন্য প্রকাশকরা বই লুকিয়ে রাখেন, অথবা আনাচে কানাচে কোথাও ফেলে রাখেন। তাঁরা সম্ভবত মনে করেন, আমার বইয়ের শব্দগুলো থেকে বিষধর সাপ বেরিয়ে তাঁদের ছোবল দেবে।

প্রশান্ত রায়ের পিপলস বুক সোসাইটি